একটি গণপাঠাগার

library6
কোন কিছু সঠিকভাবে মেনে চলার জন্য সবচেয়ে যে বড় বাধাটি কাজ করে সেটি হচ্ছে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। কারন কোন কিছু মেনে চলার জন্য আমাদেরকে সর্বপ্রথম জানতে হয় সেটি কিভাবে করতে হবে। ঠিক তেমনিভাবে আমরা যদি ইসলামের অনুশাসনগুলো মেনে চলতে চাই তাহলে আমাদেরকে সর্বপ্রথম জানতে হবে সেগুলো কি এবং কিভাবে মানতে হবে। কিন্তু আমরা যারা আমাদের পিতা-মাতা মুসলিম হওয়ার কারনে নিজেদেরকে মুসলিম বলে দাবি করি তাদের অধিকাংশই সঠিক ইসলাম সম্পর্কে বেখবর। আমাদের অধিকাংশই ইসলাম বলে সেই সব রীতিনীতিকেই বুঝি যেগুলো আমাদের বাপ-দাদারা বছরের পর বছর ধরে পালন করে আসছে। হয়তো কখনো জানতে চেষ্টা করিনি সেগুলোর উৎস কি। দুঃখের বিষয় এই উপমহাদেশে ইসলামের সাথে এমন কিছু দেশীয় সংস্কৃতি যুক্ত হয়েছে যেগুলোকে ইসলামের মধ্যে গণ্য করা যায় না। তাই সঠিক ইসলাম জানার জন্য জ্ঞান অর্জনের কোন বিকল্প নেই।
জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে প্রয়োজনীয় বই হাতের কাছে না পাওয়া। যদিও বর্তমান সময়ে ইসলামী সাহিত্যের ভান্ডার অপ্রতুল নয় কিন্তু সেগুলো সংগ্রহে রাখা অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার। আমরা যারা গণসচেতনতা তৈরি করতে চাই তাদের উচিত ইসলামী সাহিত্যগুলোকে সহজলভ্য করা। যাতে কেউ চাইলেই যে কোন বিষয়ে খুব সহজে জানতে পারে। তাই আজ বাংলাদেশের প্রতিটি পাড়ায়-মহল্লায় গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।
এমনই কিছু চিন্তা-ভাবনা করে কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম আমাদের এলাকায় একটি গণপাঠাগার স্থাপন করার জন্য। একবার তো অনেকদুর এগিয়েও গিয়েছিলাম। নিজের সীমিত জ্ঞানদিয়ে একটি রুপরেখা তৈরি করে ফেলেছিলাম। কিভাবে পাঠাগার পরিচালনা করা হবে, কিভাবে পাঠাগারের ব্যয় নির্বাহ করা হবে ইত্যাদি। কয়েকজনের সাথে বিষয়টি শেয়ারও করেছিলাম। তারা অনেক সুপরামর্শ দিয়েছিলেন, তুলে ধরেছিলেন অনেক সমস্যার কথাও। সবচেয়ে যে সমস্যাটা বড় হয়ে দেখা দিয়েছিল সেটি হচ্ছে টাকা পয়সার সমস্যা। নাহ্, এত দৌড়-ঝাপ কোন কাজেই আসলো না। পারিনি কাঙ্খিত পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করতে। তাই বলে আজো হাল ছেড়ে দেইনি। এখনো স্বপ্ন দেখি, এখনও পরিকল্পনা করি। কল্পনায় দেখতে চেষ্টা করি সেই সময়টিকে যখন আমাদের একটি গণপাঠাগার থাকবে। ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে আপামর জনতা ছুটে আসবে সেখানে। জানতে পারবে সঠিক ইসলাম সম্পর্কে।

Advertisements

বিয়ে

Image

“পরিবার ও পারিবারিক জীবন” মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীমের একটি অসাধারণ বই। এতে এতবেশি তথ্য প্রমাণ দেয়া হয়েছে যে আমি আশ্চর্য হয়েছি। আমি শুধু বিয়ের অধ্যায়টাই
পড়েছি। অনেক কিছু শিখেছি। আপনাদের সাথে কিছু বিষয় শেয়ার করছি…
১. ছেলে-মেয়ে বালেগ হলেই পিতামাতা তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিত
২. দারিদ্রতা বিয়ের প্রতিবন্ধক হতে পারে না।
৩. বিয়ের কুফুর(সমতা ও সাদৃশ্য) ক্ষেত্রে দ্বীনদারীকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
৪. বিয়ের উদ্দেশ্যে ছেলে সরাসরি মেয়েকে অথবা মেয়ে সরাসরি ছেলেকে প্রস্তাব দিতে পারে।
৫. গোপন বিয়ে জায়েজ নেই, বিয়েতে অবশ্যই সাক্ষী থাকতে হবে এবং সামাজিকভাবে সেটা প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. শুধু ছেলে এবং মেয়ের সম্মতিতেও বিয়ে করা যাবে, তবে মেয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ
৭. বিয়ের পূর্বেই ছেলে-মেয়ে পরস্পরকে দেখে নিতে হবে, এতে করে পরস্পরের প্রতি আকর্ষন তৈরি হবে।
৮. মেয়ে দেখার ক্ষেত্রে গায়রে মাহরামের(পাত্র ব্যতিত) সামনে মেয়ের বেপর্দা হওয়ার সুযোগ নেই।
৯. মোহরানা মেয়ের হক, তাই মোহরানার ব্যাপারে মেয়ের সাথে সরাসরি কথা বলা উচিত।
১০. মোহরানা পরিশোধ করা ব্যতিত স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া জায়েজ নেই।
১১. বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা মসজিদে হওয়াই উত্তম।
১২. বিয়ের অনুষ্ঠানে অশ্লীল নয় (ইসলাম সমর্থিত) এমন গান-বাজনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
১৩. ছেলে ওয়ালিমার যেয়াফত (আত্নীয়-স্বজনের খাওয়ার দাওয়াত) এর ব্যবস্থা করতে হবে। মেয়ের বাড়িতে ওয়ালিমার যেয়াফতের কোন বর্ণনা পাইনি।
বর্তমানে আমাদের সমাজে বিয়েকে দিন দিন কঠিন থেকে কঠিনতর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু বালেগ ছেলে অথবা মেয়ে কিছুতেই তাদের দৈহিক এবং মানষিক চাহিদাকে অস্বীকার করতে পারে না। আমাদের অনৈসলামিক সমাজ ব্যবস্থাও প্রতিনিয়ত উসৃংখল জীবন যাপনে প্ররোচনা দিচ্ছে। যার ফলে সমাজে অবৈধ প্রেম ভালবাসার চর্চা বেড়েই চলছে। অনেকেই এটাকে ঈমানের পরীক্ষা বলেও চালিয়ে দিতে চান। কিন্তু আল্লাহ যে জিনিসটাকে সহজ করে দিয়েছেন এবং সমাধান দিয়ে দিয়েছেন আমরা সেটাকে কঠিন করার কোন মানেই হয়না। নিজেকে বড় পরহেজগার হিসেবে প্রমাণ করার জন্য আল্লাহর দেয়া সুযোগ সুবিধা গ্রহন না করাকে আমি বোকামিই বলবো। তাই বিয়েকে সহজ করে অবৈধ প্রেম ভালবাসার গলায় ফাঁস পরানো এখন সময়ের দাবি।